প্রকাশিত: Mon, Jun 5, 2023 3:17 PM
আপডেট: Tue, Jan 27, 2026 12:56 PM

কয়লা সঙ্কটে বন্ধ পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

মনজুর এ আজিজ : ডলার সংকটে কয়লার বকেয়া ৪ হাজার ২১২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সংকটের কারণে ২৫ মে থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট বন্ধ ছিল। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে গেল। এছাড়া আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমে আসায় দৈনিক অন্তত ২৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়বে দেশ। 

একদিকে প্রচণ্ড গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় প্রচন্ড লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে কয়লা এলে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তবে পায়রার কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রটির আবার উৎপাদন শুরু হতে অন্তত ২০/২৫ দিন লাগতে পারে। 

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, শাহ আব্দুল হাসিব বলেন, কয়লা সংকটের কারণে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে দুপুর ১২টা নাগাদ। ডলার সংকটের কারণে এই কয়লার সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়লা আনার জন্য এল সি খোলা হয়েছে। আশা করছি এই মাসের শেষের দিকে কয়লাবাহী প্রথম জাহাজ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পৌঁছাবে। তখন আবার চালু হবে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে দৈনিক ঘাটতি থাকছে ১৫০০ মেগাওয়াট। অন্যান্য কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দৈনিক আরও ২০০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। এরপর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৩ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াটের বিপরীতে গড়ে দৈনিক ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। এর মধ্যে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু কেন্দ্রটি কয়লার অভাবে পুরো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি দাঁড়াবে ১৫০০,২০০ ও ১০০০সহ মোট ২৭০০ মেগাওয়াট। এতে দেশব্যাপী ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানির যোগান দিতে না পারায় অর্থাৎ কয়লা, গ্যাস এবং তেলের সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। 

তিনি বলেন, পায়রার জন্য কয়লা কত দ্রুত আনা যায়, সেই চেষ্টা করছি। আশা করি দশ-পনের দিনের মধ্যে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। দুই মাস আগে থেকেই চেষ্টা করছিলাম। অর্থনৈতিক বিষয়, এলসি খোলার বিষয় থাকে, এসব সমন্বয় করতে হয়। তবে বর্তমানে দৈনিক যে ২৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্পাদনা: এল আর বাদল